Skip to content
সোমবার, ৯ নভেম্বর, ২০২৬, ২৪ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
জাতীয়

প্রধানমন্ত্রী

সরকারি সেবা নিতে এসে কোনো নাগরিক যেন হয়রানির শিকার না হন

পুরো সংবাদ শুনুন

ডিভাইসে বাংলা voice থাকতে হবে। সেটআপ নির্দেশনা ↗

সরকারি সেবা গ্রহণ করতে এসে কোনো নাগরিক যাতে হয়রানি বা অপ্রয়োজনীয় ভোগান্তির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, সরকারি কর্মকর্তাদের মূল দায়িত্ব জনগণের সেবা করা। আর সেই দায়িত্ব পালনে সততা, দক্ষতা ও মানবিক মূল্যবোধের সমন্বয় থাকা জরুরি।

রোববার (৮ নভেম্বর) সন্ধ্যায় সাভারে বাংলাদেশ লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (বিপিএটিসি) মিলনায়তনে ৮১তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নবীন বিসিএস কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একজন সরকারি কর্মকর্তার কাছে সাধারণ মানুষ শুধু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত কিংবা নির্দেশনা প্রত্যাশা করেন না, তাঁরা মানবিক আচরণও আশা করেন। তাই সেবা নিতে আসা প্রত্যেক নাগরিকের সঙ্গে সম্মানজনক ও আন্তরিক আচরণ নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, একটি সরকারের সামগ্রিক সফলতার জন্য দক্ষ, সৎ ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন প্রশাসন অপরিহার্য। এসব গুণ একজন কর্মকর্তার পেশাগত উৎকর্ষ বৃদ্ধির পাশাপাশি রাষ্ট্র ও সরকারকেও সমৃদ্ধ করে।

নাগরিককে ভুল দেখিয়ে সংশোধনের পথও জানাতে হবে

সরকারি সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোনো নাগরিকের আবেদনপত্রে ভুল থাকলে শুধু ভুলের কথা জানিয়ে তাঁকে ফিরিয়ে দেওয়া উচিত নয়। বরং কোথায় ভুল হয়েছে এবং কীভাবে তা সংশোধন করতে হবে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিতে হবে।

তাঁর মতে, এ ধরনের সহযোগিতামূলক আচরণই একজন সরকারি কর্মকর্তার আন্তরিকতা ও মানবিকতার পরিচয় বহন করে।

তারেক রহমান বলেন, জীবনের বিভিন্ন প্রয়োজনে প্রত্যেক মানুষকেই অন্যের সহযোগিতা নিতে হয়। একজন কর্মকর্তা নিজে অন্যের কাছ থেকে যে ধরনের আচরণ প্রত্যাশা করেন, সেবা নিতে আসা নাগরিকদের সঙ্গেও তাঁর একই ধরনের আচরণ করা উচিত।

তিনি আরও বলেন, সরকারি কর্মকর্তাদের অবশ্যই প্রচলিত আইন ও বিধিবিধান অনুসরণ করে দায়িত্ব পালন করতে হবে। তবে আইন মেনে কাজ করার পাশাপাশি নাগরিকদের সঙ্গে মানবিক আচরণ নিশ্চিত করাও আধুনিক প্রশাসনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য।

রাজনৈতিক সমর্থন থাকবে ব্যালটে, সরকারি অফিসে নয়

প্রশাসনের রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতি একজন সরকারি কর্মকর্তার ব্যক্তিগত সমর্থন থাকতে পারে। তবে সেই সমর্থনের প্রকাশ ঘটতে হবে ভোটের মাধ্যমে, সরকারি দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে নয়।

তিনি বলেন, সরকারি কর্মকর্তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় দলীয় বিবেচনার ঊর্ধ্বে থেকে নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে হবে।

নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, জনগণ ভোটের মাধ্যমে যে ইশতেহারের পক্ষে রায় দিয়েছেন, সেটি এখন জনগণের দলিল। ফলে নির্বাচিত সরকারের সেই প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের আন্তরিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

পদায়ন ও পদোন্নতির জন্য সততার সঙ্গে আপস নয়

নবীন কর্মকর্তাদের পেশাগত দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পছন্দের পদে পদায়ন কিংবা পদোন্নতির আশায় কখনো দক্ষতা, সততা ও নৈতিকতার সঙ্গে আপস করা উচিত নয়।

তিনি বলেন, দেশের যেকোনো অঞ্চলে জনপ্রশাসনের যেকোনো পদে দায়িত্ব পালনের মানসিক প্রস্তুতি থাকাই একজন কর্মকর্তার প্রকৃত পেশাদারিত্বের পরিচয়।

প্রধানমন্ত্রী স্মরণ করিয়ে দেন, কোনো সরকার যেমন স্থায়ী নয়, তেমনি জনপ্রশাসনের কোনো পদও কারও জন্য চিরস্থায়ী নয়। তাই ব্যক্তিগত সুবিধার পরিবর্তে জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

সরকারি সেবা সহজ ও নাগরিকবান্ধব করার আহ্বান

প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতা কমিয়ে সরকারি সেবাকে আরও সহজ ও নাগরিকবান্ধব করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, শুধু প্রশাসনিক উদ্যোগ গ্রহণ করলেই সেবার মান উন্নত হবে না। এ জন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ইতিবাচক মানসিকতা এবং দায়িত্বশীল আচরণও প্রয়োজন।

নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি বুনিয়াদি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাঁরা বাস্তব কর্মজীবনে জ্ঞান প্রয়োগের কৌশল শিখেছেন। এখন নিজ নিজ কর্মস্থলে সেই অর্জিত জ্ঞানের যথাযথ প্রয়োগ ঘটাতে হবে।

বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের বিভিন্ন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের কাজের ধরন ও দায়িত্ব ভিন্ন হলেও তাঁদের সবার প্রধান পরিচয় জনগণের সেবক বলে উল্লেখ করেন তিনি।

পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়ার তাগিদ

বক্তব্যে পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতার বিষয়েও গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ঘরবাড়ি, অফিস-আদালত এবং আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে সবাইকে আরও সচেতন হতে হবে।

ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর দেশ গড়ে তুলতে ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

শীর্ষ ১০ প্রশিক্ষণার্থীকে সনদ প্রদান

অনুষ্ঠানে চার মাসব্যাপী ৮১তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সে অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের মধ্যে সেরা ১০ জনের হাতে সনদ তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

নবীন কর্মকর্তাদের অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন, তাঁরা সততা, দক্ষতা, নিরপেক্ষতা ও মানবিক মূল্যবোধের মাধ্যমে একটি জনবান্ধব ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসন গড়ে তুলতে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন।

পাঠকের মতামত

কমেন্ট করুন

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার মতামত লিখুন। মন্তব্য প্রকাশের আগে পর্যালোচনা করা হতে পারে।

0 মন্তব্য

আপনার মতামত লিখুন

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।