Skip to content
সোমবার, ৯ নভেম্বর, ২০২৬, ২৪ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বিনোদন

শাড়িকাণ্ডের পর এবার তানজিন তিশার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা

রোববার (৮ নভেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল হোসেনের আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়। বাদীর জবানবন্দি গ্রহণের পর অভিযোগ তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

পুরো সংবাদ শুনুন

ডিভাইসে বাংলা voice থাকতে হবে। সেটআপ নির্দেশনা ↗

শাড়ি নিয়ে বিরোধের জেরে চলমান মামলার মধ্যেই এবার নতুন করে আইনি জটিলতায় পড়েছেন ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী তানজিন তিশা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আপত্তিকর ছবি প্রকাশ ও মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে সম্মানহানির অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেছেন ফ্যাশন ডিজাইনার ও ভেলমেট-ইয়ুথ ম্যাগাজিনের সম্পাদক সানায়া আনাম ওয়াফিকা চৌধুরী।

রোববার (৮ নভেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল হোসেনের আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়। বাদীর জবানবন্দি গ্রহণের পর অভিযোগ তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

বাদীপক্ষের আইনজীবী শুভ্র সিনহা রায় মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ছবি ও তথ্য অপসারণের অনুরোধ জানিয়ে গত ২৮ অক্টোবর তানজিন তিশাকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নোটিশের জবাব না পাওয়া এবং সংশ্লিষ্ট ছবি অপসারণ না করায় আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন তাঁর মক্কেল।

আইনজীবী আরও জানান, আদালত মামলার আবেদন গ্রহণ করে বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করেছেন। একই সঙ্গে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে আগামী ২১ জানুয়ারির মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে পিবিআইকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ফেসবুকে ছবি ও তথ্য প্রকাশের অভিযোগ

মামলার আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, তানজিন তিশার বিরুদ্ধে বাদীর দায়ের করা আরও দুটি পৃথক মামলা বর্তমানে ঢাকা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

বাদীর অভিযোগ, ওই মামলাগুলো দায়েরের পর প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে গত ২৭ অক্টোবর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে তাঁর সম্পর্কে বিভিন্ন আপত্তিকর ছবি ও ভুল তথ্য প্রকাশ করেন তিশা।

এ ছাড়া বাদীর বিষয়ে দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমের কাছে বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে বলেও মামলার আবেদনে দাবি করা হয়।

অভিযোগে বলা হয়েছে, ফেসবুকে বাদীর একটি আপত্তিকর ছবি প্রকাশের পাশাপাশি দুই অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুর ছবিও পোস্ট করা হয়। এতে বাদীর ব্যক্তিগত ও সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

আগে হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ

মামলার আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালের ৭ নভেম্বর ফেসবুক মেসেঞ্জারে কল করে বাদীকে তাঁর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন তানজিন তিশা।

বাদীর দাবি, ওই সময় অভিনেত্রী তাঁর ছবি প্রকাশ করে সামাজিকভাবে বিব্রত করার কথা বলেছিলেন।

পরবর্তী সময়ে ২৭ অক্টোবর ফেসবুকে ছবি ও তথ্য প্রকাশের ঘটনাকে আগের সেই হুমকির ধারাবাহিকতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে মামলার আবেদনে।

আইনি নোটিশের পরও ছবি সরানো হয়নি বলে দাবি

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ২৭ অক্টোবর রাত ১১টার দিকে ফেসবুকে প্রকাশিত ছবি ও তথ্যের বিষয়টি বাদীর নজরে আসে।

এরপর ২৮ অক্টোবর আইনজীবীর মাধ্যমে রেজিস্ট্রি ডাকযোগে তানজিন তিশাকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়।

নোটিশে প্রাপ্তির দুই দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ছবি ও তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছিল।

তবে তিশা নোটিশের জবাব দেননি এবং অভিযোগে উল্লেখ করা ছবি ও তথ্য অপসারণ করেননি বলে দাবি করেছেন বাদী। এর পরিপ্রেক্ষিতেই নতুন করে মানহানির মামলা দায়ের করা হয়েছে।

তদন্তের নির্দেশ আদালতের

বাদীপক্ষের বক্তব্য ও মামলার আবেদন পর্যালোচনার পর অভিযোগ তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে পিবিআইকে। আগামী ২১ জানুয়ারির মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ রয়েছে।

তবে মামলায় উত্থাপিত অভিযোগগুলো এখনো তদন্তাধীন। অভিযোগের সত্যতা কিংবা তানজিন তিশার দায় আদালতে প্রমাণিত হয়নি।

এ বিষয়ে অভিনেত্রী তানজিন তিশার কোনো বক্তব্য মূল প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।

শাড়ি নিয়ে পূর্ববর্তী বিরোধের পর নতুন এই মানহানির মামলার মাধ্যমে অভিনেত্রী ও ফ্যাশন ডিজাইনারের মধ্যকার আইনি বিরোধ আরও বিস্তৃত হলো।

পাঠকের মতামত

কমেন্ট করুন

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার মতামত লিখুন। মন্তব্য প্রকাশের আগে পর্যালোচনা করা হতে পারে।

0 মন্তব্য

আপনার মতামত লিখুন

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।