Skip to content
সোমবার, ৯ নভেম্বর, ২০২৬, ২৪ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
জাতীয়

রাশেদ খাঁনকে ‘বদদোয়া’ দিলেন আমির হামজা

বক্তব্যে সরাসরি রাশেদ খাঁনের নাম উল্লেখ না করলেও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারীর পদ উল্লেখ করে তাঁর তীব্র সমালোচনা করেন আমির হামজা। একই সঙ্গে আলেমদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারে জড়িত ব্যক্তিদের উদ্দেশে বদদোয়াও করেন তিনি।

পুরো সংবাদ শুনুন

ডিভাইসে বাংলা voice থাকতে হবে। সেটআপ নির্দেশনা ↗

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁনের প্রকাশ করা কথিত অডিও-ভিডিওর অভিযোগকে ‘ষড়যন্ত্র’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন কুষ্টিয়া-৩ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য ও ইসলামি বক্তা মুফতি আমির হামজা। সম্প্রতি বগুড়ায় এক ওয়াজ মাহফিলে দেওয়া বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, আলেমদের সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করতে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

ওই বক্তব্যে সরাসরি রাশেদ খাঁনের নাম উল্লেখ না করলেও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারীর পদ উল্লেখ করে তাঁর তীব্র সমালোচনা করেন আমির হামজা। একই সঙ্গে আলেমদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারে জড়িত ব্যক্তিদের উদ্দেশে বদদোয়াও করেন তিনি।

রাজনৈতিক সহকারীর যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন

ওয়াজ মাহফিলে আমির হামজা বলেন, বর্তমানে একটি মহল আলেমদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে তাঁদের সম্মানহানির চেষ্টা করছে। যারা অন্যের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, তাঁদের নিজেদের চরিত্র নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারীকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘চাটাচাটি করে এ পদটা যদি না পেত, আমার মনে হয় আজ রাস্তা ঝাড়ু দিয়ে খাওয়া লাগত। ওর তো রাস্তা ঝাড়ু দেওয়ারও যোগ্যতা নেই।’

তিনি অভিযোগ করেন, যোগ্যতার পরিবর্তে তোষামোদের মাধ্যমে কেউ কেউ গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পদে জায়গা করে নিয়েছেন।

আলেমদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ

আমির হামজা দাবি করেন, অতীতেও ধর্মীয় বক্তা ও আলেমদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অডিও প্রকাশ করে তাঁদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা হয়েছে।

নিজের অতীত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রিমান্ডে থাকাকালে তাঁকে আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর নামে একটি কথিত অডিও শোনানো হয়েছিল।

তাঁর দাবি, ওই অডিওতে সাঈদীর কণ্ঠস্বরের সঙ্গে মিল পাওয়া গেলেও সেটি প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছিল।

এ প্রসঙ্গে তিনি ইসরায়েলি প্রযুক্তি ব্যবহারের অভিযোগও তোলেন। তবে এসব দাবির পক্ষে বক্তব্যে কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপনের তথ্য পাওয়া যায়নি।

আমির হামজা আরও অভিযোগ করেন, অতীতে আলেমদের বিরুদ্ধে যেভাবে অপপ্রচার চালানো হয়েছিল, বর্তমানেও একই ধরনের চেষ্টা চলছে। এসব কর্মকাণ্ডের পেছনে ভারতের ভূমিকা রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

বগুড়ার মাহফিল থেকে বদদোয়া

বক্তব্যের একপর্যায়ে আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর প্রসঙ্গ টেনে আমির হামজা বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচারের সময় তিনি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উদ্দেশে বদদোয়া করেছিলেন।

এরপর আমির হামজা নিজেও আলেমদের সম্মানহানির চেষ্টায় জড়িত বলে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের উদ্দেশে বদদোয়া করেন।

তিনি বলেন, ‘আমিও বদদোয়া দিলাম এই মুসাফির অবস্থায়। যারা আলেমদের পেছনে; আমার পেছনে একা না, এ দেশের আলেমদেরকে যারা অপমান করার জন্য লেগেছে, আল্লাহ যেন জাতির সামনে নেংটা করে দেয়।’

তাঁর দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে প্রচারিত অভিযোগের সঙ্গে বাস্তবতার কোনো সম্পর্ক নেই।

প্রধানমন্ত্রীকে যোগ্য ব্যক্তিদের কাছে রাখার আহ্বান

বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্দেশেও কিছু পরামর্শ দেন জামায়াতের এই সংসদ সদস্য।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর উচিত যোগ্য, শিক্ষিত ও দক্ষ ব্যক্তিদের নিজের পাশে রাখা। গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে এমন ব্যক্তিদের স্থান দেওয়া প্রয়োজন, যাঁদের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও পেশাগত দক্ষতা রয়েছে।

রাজনৈতিক সহকারীকে ইঙ্গিত করে তিনি অভিযোগ করেন, তোষামোদের মাধ্যমে পদ পাওয়া ব্যক্তিরা প্রধানমন্ত্রীকে সঠিক তথ্য দিতে পারেন না।

যেভাবে শুরু হয় অডিও বিতর্ক

এর আগে গত ৬ নভেম্বর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন।

ওই পোস্টে তিনি দাবি করেন, আমির হামজাকে ঘিরে নারীসংক্রান্ত কিছু অডিও ও ভিডিও তাঁর কাছে এসেছে। সেগুলো যাচাই করে সত্যতা পাওয়া গেছে বলেও দাবি করেন তিনি।

একই সঙ্গে কথিত কথোপকথনের কিছু অংশ প্রকাশ করেন এবং সংশ্লিষ্ট অডিওর লিংক মন্তব্যের ঘরে যুক্ত করার কথা জানান।

প্রকাশিত বলে দাবি করা অডিওতে এক ব্যক্তিকে অতীতের একটি ঘটনার জন্য অনুতাপ প্রকাশ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে ক্ষমা চাওয়ার বিষয়ে কথা বলতে শোনা যায়।

তবে অডিওতে থাকা ব্যক্তির পরিচয়, কথোপকথনের প্রেক্ষাপট কিংবা রাশেদ খাঁনের উত্থাপিত অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে আলোচনা

রাশেদ খাঁনের ফেসবুক পোস্টের পর বগুড়ার ওয়াজ মাহফিলে আমির হামজার দেওয়া বক্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

একদিকে রাশেদ খাঁন কথিত অডিও-ভিডিওর সত্যতা পাওয়ার দাবি করেছেন, অন্যদিকে আমির হামজা এসব অভিযোগকে আলেমদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে তুলে ধরেছেন।

তবে উভয় পক্ষের বক্তব্য ও অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত বা যাচাইয়ের কোনো ফলাফল মূল প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।

পাঠকের মতামত

কমেন্ট করুন

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার মতামত লিখুন। মন্তব্য প্রকাশের আগে পর্যালোচনা করা হতে পারে।

0 মন্তব্য

আপনার মতামত লিখুন

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।